রোবটের আক্রমণে আহত মানুষ! ইলন মাস্কের কারখানায় হইচই, কী বললেন টেসলার কর্ণধার?

30th December 2023 8:27 pm Country News
রোবটের আক্রমণে আহত মানুষ! ইলন মাস্কের কারখানায় হইচই, কী বললেন টেসলার কর্ণধার?


অবশেষে টেসলার টেক্সাসের কারখানায় রোবট দ্বারা কর্মীর আহত হওয়ার বিতর্কে মুখ খুললেন টেসলার কর্ণধার ইলন মাস্ক। এই বিষয় রোবটটির কোনও ভুল নেই বলেই দাবি করেছেন তিনি। নিজের এক্স মাধ্যমে এই বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেছেন।

প্রসঙ্গত, কর্মীদের কাজে সাহায্য করার জন্য তিনটি রোবট রাখা হয়েছিল ইলন মাস্কের প্রখ্যাত গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা টেসলার টেক্সাসের কারখানায়।

কিন্তু সাহায্য করা দূরস্থান, একটি রোবট হঠাৎই সেখানকার এক কর্মীকে কৃত্রিম নখ বার করে আঁচড়ে দেয়। সম্প্রতি প্রকাশিত ওই সংস্থার একটি রিপোর্টে এমনটাই জানা গিয়েছে। যদিও রিপোর্টে এ-ও দাবি করা হয়েছে যে, ঘটনাটি তিন বছর আগেকার। তবে ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা সম্প্রতি এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, টেক্সাসের ওই কারখানায় সফ্‌টঅয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কাজ করতেন আক্রান্ত কর্মী। তাঁর কাজ ছিল নতুন অ্যালুমিনিয়াম পাত কেটে তা নতুন গাড়িতে ব্যবহার করা। ঘটনার দিন দু’টি রোবটকে নিশ্চল করে রাখা হলেও, একটি রোবট আংশিক ভাবে কার্যকর ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, আক্রান্ত কর্মীকে কাজে বাধা দিচ্ছিল তৃতীয় রোবটটি।

তার পরেও ওই কর্মী কাজ চালিয়ে যাওয়ায় নিজের কৃত্রিম নখ বার করে পিঠে এবং হাতে আঁচড় কেটে দেয় রোবটটি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, রোবটটি আক্রমণ করার পরেই রক্তে ভেসে যায় দুর্ঘটনাস্থলটি। সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্তকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। এক সহকর্মী তৎক্ষণাৎ জরুরি ‘স্টপ’ বোতাম বা ‘ইমারজেন্সি’ বোতাম টিপে দেন। ফলে রোবটের হাত থেকে সেই ইঞ্জিনিয়ার পালাতে পারেন। 

টেসলার বর্তমান এবং প্রাক্তন কর্মীদের অবশ্য অভিযোগ, টেসলা সংস্থা প্রায়শই নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনার ক্ষেত্রে আপস করে, কর্মীদের ঝুঁকিতে ফেলে। ইউএস অকুপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হেলথ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ওএসএইচএ) এর কাছে জমা দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী টেসলার টেক্সাসের এই কারখানায় ২০২১ এবং ২০২২ সালে বছরে মাত্র একবার পরিদর্শন করা হয়েছিল। বিশেষত টেসলার টেক্সাসের এই কারখানায় যখন অন্যান্য কারখানার তুলনায় দুর্ঘটনা বা আহত হওয়ার হার অনেক বেশি। প্রসঙ্গত, বিভিন্ন তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, গত বছর অস্টিনের কারখানায় ২১ জন শ্রমিকের মধ্যে গড়ে প্রায় একজন চাকরির সময় আঘাত পেয়েছেন। যেখানে অন্যান্য কারখানায় ৩০ জনের মধ্যে একজন আহত হয়েছেন। শুধু টেক্সাসের কারখানায় নয়, নিরাপত্তার বৈষম্য ক্যালিফোর্নিয়ার টেসলার ফ্রেমন্ট কারখানাতেও দেখা গিয়েছিল। ওই হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে ফ্রেমন্ট কর্মীদের ১২ জনের মধ্যে গড়ে একজন করে আহত হয়েছেন। আহত হওয়ার এই হার টেসলার সামগ্রিক কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা সম্পর্কেও প্রশ্ন তোলে। টেসলার কর্ণধার ইলন মাস্ক এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘দু’বছর আগে একটি সাধারণ শিল্প কুকা রোবট আর্ম (সব কারখানায় পাওয়া যায়)- এর কারণে আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে নিয়ে বর্তমানে চর্চা করা সংবাদমাধ্যমের কাছে সত্যিই লজ্জাজনক।’’ এক্স-এ অ্যান্ড্রু ম্যাককার্থির, একটি পোস্টের উত্তরে তিনি এই কথা লিখেছেন। অ্যান্ড্রু ম্যাকার্থির এক্স-এ ব্যাখ্যা করেছিলেন যে, রোবটটি শুধু একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাত্র, এবং ‘‘ঠিক যা করার জন্য প্রোগ্রাম করা হয়েছিল তা-ই করেছে।’’ তিনি আরও লেখেন, কর্মী হয়তো ভেবেছিলেন যে, রোবটটি বন্ধ ছিল। কিন্তু বাস্তবে তা ছিল না।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।