৭ কারণ: গরমে দিশাহারা হয়ে গেলেও বরফের গোলা কিংবা হিমশীতল জলে চুমুক দেওয়া যাবে না

19th April 2024 8:47 pm Country News
৭ কারণ: গরমে দিশাহারা হয়ে গেলেও বরফের গোলা কিংবা হিমশীতল জলে চুমুক দেওয়া যাবে না


ব্যাগে সব সময়েই জলের বোতল থাকে। কিন্তু এই গরমে ব্যাগে রাখা জল ফুটন্ত বলে মনে হয়। বারে বারে জল খেয়ে গলা ভেজালেও যেন কিছুতেই শান্তি হয় না। রাস্তার পাশ দিয়ে আইসক্রিমের গাড়ি চলে গেলে কিংবা রাস্তার ধারের দোকানে ঠান্ডা জলের বোতল দেখলে প্রাণটা যেন আরও ছটফট করে ওঠে। কোনও মতে সেই লোভ সংবরণ করলেও বাড়ি ফিরে টেবিলে রাখা ঠান্ডা জল কিংবা ঠান্ডা শরবতে গলা ভেজানোর হাতছানি কিছুতেই এড়ানো যায় না। চিকিৎসকেরা বলছেন, যাঁদের ঠান্ডা লাগার ধাত রয়েছে, তাঁদের জ্বর-সর্দি-কাশির মতো সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না, অতিরিক্ত ঠান্ডা জল খেলে শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াগুলিও ব্যাহত হতে পারে।

ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা জল বার করে সরাসরি গলায় ঢাললে কী কী সমস্যা হতে পারে?

 

১) রোদ থেকে বাড়িতে ঢুকেই কনকনে ঠান্ডা জল গলায় ঢাললে আরাম হবে ঠিকই। কিন্তু, তা সাময়িক। চিকিৎসকেরা বলছেন, এই অভ্যাসে সংক্রমণজনিত জ্বর, সর্দি-কাশির সমস্যা দেখা দিতে পারে। গলায় ঘা-ও হতে পারে।

২) ঠান্ডা জল রক্তজালিকা, রক্তবাহিকাগুলির নমনীয়তা নষ্ট করে দেয়। ফলে সারা শরীরেই রক্ত চলাচল ব্যাহত হতে পারে। পেশিতে টান ধরা, পেটফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও হতে পারে।

 

৩) গলায় সরাসরি ঠান্ডা জল ঢাললে তার সংলগ্ন পেশির নমনীয়তা নষ্ট হয়। খাবার গিলতে সমস্যা হয়। শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ঠান্ডা লাগার মতো সমস্যা তো আছেই, নাক বন্ধ, গলাব্যথা হতে পারে।

৪) খুব ঠান্ডায় যেমন মাথাব্যথা হয়, তেমন খুব গরমেও মাইগ্রেনের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে এই অভ্যাসে। ঠান্ডা জল খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইনাসের সমস্যাও বেড়ে যেতে পারে।

 

৫) যে হেতু ঠান্ডা জল খেলে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়, তাই খাবার হজম করতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। পুষ্টিবিদেরা তাই খাবার খাওয়ার পর ঠান্ডা জল খেতে বারণ করেন।

 

৬) হিমশীতল জল খাওয়ার অভ্যাস শরীরে মেদ জমার পরিমাণ বাড়িয়ে তুলতে পারে। যতই কসরত করুন না কেন, ক্যালোরি পোড়াতে বেশ বেগ পেতে হবে।

 

৭) ঠান্ডা-গরমে অনেকেরই দাঁত শিরশির করে। দাঁতের উপর যে এনামেলের পরত থাকে, তা অতিরিক্ত ঠান্ডায় নষ্ট হতে শুরু করে। তাই ঠান্ডা জল, আইসক্রিম খেলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।