টিজার, তোলাপাড়, FIR! ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’–এর বিরুদ্ধে ইতিহাসবিরোধী অভিযোগে উত্তাল বাংলা"

18th August 2025 11:13 am Country News
টিজার, তোলাপাড়, FIR! ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’–এর বিরুদ্ধে ইতিহাসবিরোধী অভিযোগে উত্তাল বাংলা


পরিচালক বিবেক আগ্নিহোত্রির আসন্ন ছবি ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ ঘিরে তীব্র বিতর্ক ছড়াল পশ্চিমবঙ্গে। রবিবার, ১৭ আগস্ট ২০২৫-এ গোপাল মুখোপাধ্যায়ের (জনপ্রিয় নাম ‘গোপাল পাঠা’) পরিবার—বিশেষ করে তাঁর নাতি শান্তনু মুখোপাধ্যায়—বিবেক আগ্নিহোত্রির বিরুদ্ধে কলকাতার এক থানায় এফআইআর দায়ের করেন। অভিযোগ, টিজারে গোপাল পাঠার চরিত্রকে ‘একজন মুসলিম-বিরোধী কসাই’ হিসেবে বিকৃতভাবে দেখানো হয়েছে।

🎙️ পরিবারের বক্তব্য:

শান্তনু মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমার ঠাকুর্দা ছিলেন একজন সমাজসংস্কারক, অকাঁসাল সমিতির সদস্য ও স্বাধীনতা সংগ্রামী। তাঁকে একজন ‘ঘৃণাপ্রবণ কসাই’ হিসেবে দেখানো ইতিহাস বিকৃতি ছাড়া কিছুই নয়।”

তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই বিবেক আগ্নিহোত্রিকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়

এর পাশাপাশি, কলকাতায় ছবির ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠান ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়। স্থানীয় পুলিশ "অনুমতির অভাব" দেখিয়ে ইভেন্ট বন্ধ করে দেয়। জানা গেছে, অনুষ্ঠানের আগে হোটেলের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ ছবিতে ১৯৪৬-৪৭ সালের দাঙ্গা, কলকাতার ঐতিহাসিক পটভূমি, ও গোপাল পাঠার ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। তবে পরিবারের অভিযোগ, এটি ঐতিহাসিক সত্যের চেয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিকৃতি।


সমাজের একাংশ ছবির ‘টিজার’-এর মাধ্যমে গোপাল পাঠার ভাবমূর্তি হেয় করার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে, আবার অন্য পক্ষ বলছে এটি ‘আরও এক বাস্তব সামনে আনার চেষ্টা’। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি ইতিমধ্যেই ভাইরাল।

বর্তমানে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। আগ্নিহোত্রির পক্ষে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও আসেনি।


 

 





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।