‘হামলা হলেই যুদ্ধ’, রণতরী মোতায়েনের ঘোষণায় ট্রাম্পকে কড়া সতর্কবার্তা ইরানের

24th January 2026 10:38 am Global News
‘হামলা হলেই যুদ্ধ’, রণতরী মোতায়েনের ঘোষণায় ট্রাম্পকে কড়া সতর্কবার্তা ইরানের


ইরানকে ঘিরে ফের তীব্র উত্তেজনার আবহ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে। যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ঘোষণা করে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে কড়া অবস্থান নিয়েছেন, তার পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে যে কোনও ধরনের হামলাই যুদ্ধ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং তার জবাব হবে সর্বোচ্চ শক্তিতে।

ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেখান থেকে ফেরার পথে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরানের দিকে একটি বড় নৌবহর পাঠানো হচ্ছে এবং সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতিও চলছে। তাঁর কথায়, “আমাদের একটি শক্তিশালী নৌবহর ওই দিকে যাচ্ছে। আমরা দেখব কী করা যায়। সৈন্যদলও এগিয়ে চলেছে।” একই সঙ্গে আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের দেশকে ‘পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়া’র হুঁশিয়ারিও শোনা যায় তাঁর বক্তব্যে। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই দ্রুত পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান।

ইরান সরকারের এক শীর্ষ কর্তার বক্তব্যে স্পষ্ট, কোনও রকম নরম মনোভাব দেখাতে রাজি নয় তেহরান। তিনি বলেন, “আমাদের হাতে যা কিছু আছে, সবই ব্যবহার করতে আমরা প্রস্তুত। আমাদের উপর কোনও আক্রমণ—তা ছোট হোক বা বড়, সার্জিক্যাল বা কাইনেটিক—সবই আমরা যুদ্ধ হিসেবে দেখব এবং তার জবাব হবে সবচেয়ে কঠোর।” তাঁর কথায়, আমেরিকার দীর্ঘদিনের হুমকির কারণেই ইরান এখন সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি যে শুধু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তারও ইঙ্গিত মিলেছে বিভিন্ন রিপোর্টে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের দাবি অনুযায়ী, ইরানের দিকে পাঠানো হয়েছে ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’ বিমানবাহী রণতরী, সঙ্গে রয়েছে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত তিনটি ডেস্ট্রয়ার। পাশাপাশি, ওই অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে আমেরিকার বিমান বাহিনীর এক ডজন F-15 যুদ্ধবিমান। এর পাল্টা প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরানও, যদিও সেই পরিকল্পনার খুঁটিনাটি প্রকাশ্যে আনেনি তারা।

এই উত্তেজনার পেছনে রয়েছে ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার প্রেক্ষাপটও। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে সে দেশে শুরু হয় ব্যাপক বিক্ষোভ। প্রথমে আর্থিক সংকট, মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হলেও পরে তা ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভে রূপ নেয়। আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের ক্ষমতাচ্যুতির দাবিতে পথে নামেন লাখো মানুষ। এই বিক্ষোভে প্রকাশ্যে সমর্থন জানান ট্রাম্প।

তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে কঠোর পদক্ষেপ নেয় ইরান সরকার। বিক্ষোভ দমনে নির্বিচারে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে, যা আন্তর্জাতিক মহলেও আলোড়ন তোলে। এর পরই ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দেন ট্রাম্প। যদিও এক পর্যায়ে কিছুটা সুর নরম করে তিনি জানান, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না বলে তাঁকে আশ্বস্ত করেছে ইরান সরকার। তখন কূটনৈতিক মহল মনে করেছিল, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা হয়তো কিছুটা কমছে।

কিন্তু ডাভোস সফর শেষে ট্রাম্পের নতুন মন্তব্যে সেই আশা ভেস্তে যায়। নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে বলেই মত বিশ্লেষকদের। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তার প্রভাব শুধু আমেরিকা-ইরান সম্পর্কেই নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার উপর পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।





Others News

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ও বৈশ্বিক সংকট |

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ও বৈশ্বিক সংকট |


বর্তমান বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় খবর হলো ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া প্রত্যক্ষ সংঘাত। গত কয়েকদিন ধরে চলা পাল্টাপাল্টি হামলার পর আজ পরিস্থিতি এক নতুন এবং ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমগুলোর শিরোনামে এখন শুধুই মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা।

১. ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার মৃত্যু

আজকের সবচেয়ে বড় চাঞ্চল্যকর খবর হলো ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিমানি-র মৃত্যু। ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে ইরান নিশ্চিত করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে একে "শহীদত্ব বরণ" হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে এবং এর কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

২. উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আজ ভোরে কাতারের রাজধানী দোহায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কাতার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরের আকাশে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দেওয়ার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়তে দেখা গেছে। এর ফলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

৩. ইসরায়েলে পাল্টা আঘাত

ইরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। তেল আবিবের নিকটবর্তী রামাত গান এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত দুজন ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ইরান দাবি করেছে, তারা অত্যাধুনিক 'ক্লাস্টার ওয়ারহেড' ব্যবহার করে এই পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

৪. বৈশ্বিক প্রভাব ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা

এই যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে।

  • জ্বালানি সংকট: হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।

  • দক্ষিণ এশিয়া: শ্রীলঙ্কায় জ্বালানি সাশ্রয়ে ইতোমধ্যেই ৪ দিনের কর্মদিবস ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতেও রান্নার গ্যাস (LPG) সরবরাহে টান পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

৫. বিশ্বশক্তির অবস্থান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী মুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র একাই সক্ষম এবং এ কাজে ন্যাটোর সহায়তার প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধের কারণে ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে বিশ্বের নজর সরে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি।


দ্রষ্টব্য: পরিস্থিতি অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তনশীল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও আপাতত শান্তির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।